গনতন্ত্র কাকে বলে

গনতন্ত্র হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে নীতিনির্ধারণে বা প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সকল সদস্য বা নাগরিকের সমান অধিকার থাকে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সদস্য বা নাগরিকদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থাকে। নাগরিক বা সদস্যদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ আইন প্রস্তাবনা, তৈরী এবং প্রণয়নের কাজ করে থাকেন।

গণতন্ত্র শব্দটি যদিও সাধারণভাবে কোন রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা বা রাজনৈতিক পরিমন্ডলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবুও সংস্থা কিংবা নানা ধরনের সংগঠনের ক্ষেত্রেও গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রযোজ্য হতে পারে।

গনতন্ত্রের মূলস্তম্ভঃ

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। এই মূল ভিত্তিগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়, ক্ষমতার সুষম বন্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে শাসনকার্যকে পরিচালনা করতে সার্বিক সহায়তা করে।

১. আইন বিভাগঃ

জনগনের জন্য সংবিধান মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইন প্রনয়ন করাই এই বিভাগের প্রধান কাজ। নাগরিকদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিগণ নির্দিষ্ট মেয়াদে আইন প্রণয়নের কাজের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত হন, আইন্সভায় স্থানপ্রাপ্ত হন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ সংবিধানের মূল কাঠামোর উপর নির্ভর করেই আইন প্রণয়ন করে থাকেন।

২. শাসন বিভাগঃ

প্রচলিত আইন মোতাবেক রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থাকে নির্বিঘ্ন রাখাই এই বিভাগের প্রধান কর্তব্য। নাগরিকদের ভোটের সাহায্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ মূলত শাসন বিভাগের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের প্রধান হিসেবে কর্মরত থাকেন। রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রচলিত আইন অনুসারে প্রশাসনিক কার্যক্ররম পরিচালনা করে এই বিভাগ। এই বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাগণ সরকারের দ্বারা নিযুক্ত হয়ে থাকেন।

৩. বিচার বিভাগঃ

বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে মূলত এই বিভাগ গঠিত হয়ে থাকে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত এবং কেন্দ্রীয় শীর্ষ আদালত নিয়ে গঠিত হয় বিচার বিভাগ। এই বিভাগের প্রধান কাজ হল রাষ্ট্রের আইন মোতাবেক বিভিন্ন বিষয়ের বিচার কার্য সম্পন্ন করা। আইনসভার প্রস্তাবনা বা সিদ্ধান্ত সংবিধান সম্মত কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহনের এখতিয়ার আছে এই বিভাগের।

এই তিনটি মূল বিভাগের কার্যক্রম স্বচ্ছ এবং ক্ষমতার সুষম বন্টন থাকলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ভালোভাবে জনকল্যাণমূলক উপায়ে একটি রাষ্ট্রকে পরিচালনা করা সম্ভব হয়ে থাকে।

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ:

সংবাদ মাধ্যম একটি দেশের সার্বিক ও সকল পরিস্থিতিকে পর্যালোচনা করে সে বিষয়ে জনগণকে অবহিত করতে পারে বলে সংবাদ মাধ্যমকে একটি রাষ্ট্রের আয়না বলা হয় এবং বর্তমানে একে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়।

কেননা একটি দেশের শাসন ব্যবস্থা, শাসনকার্যের দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধিগণ, তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার ক্ষমতা রয়েছে সংবাদমাধ্যমের। এজন্য রাষ্ট্রের সুশাসন এবং সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করার  জন্য অন্য তিনটি মূল বিভাগের পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অতি জরুরি।

ইতিবাচক দিকঃ

একটি সুশাসন চর্চাকারী রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। যেমন

  • জনগণ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
  • আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ।
  • যথাবিহিত আইনের দ্বারা জনগণের জান-মালের নিশ্চয়তা।
  • প্রশাসক এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ কার্যের জন্য জবাবদিহিতা করার বিধান।
  • মানুষের মর্যাদা রক্ষায় সহায়ক হিসেবে কাজ করে গণতন্ত্র।
  • সুবিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা।
  • গণতন্ত্র, ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন, ন্যায়- সত্যের প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারীতা রোধ করতে কার্যকর করে।

গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা বা নেতিবাচক দিকঃ

  • প্রতিনিধি নির্বাচনে জনগণের অজ্ঞতার ফলে অযোগ্য-অক্ষম- অদক্ষ প্রতিনিধি নির্বাচিত হবার সুযোগ থাকে।
  • কার্যপরিচালনা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে স্থায়িত্বের অভাব এবং শাসন ব্যবস্থায় দায়িত্বহীনতার সুযোগ।
  • ব্য্যবহুল শাসনব্যবস্থা; জনমত গঠন,নির্বাচন, প্রচারকার্য প্রভৃতির পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হয়।
  • সংখ্যালঘুদের মত উপেক্ষিত হয়।
  • ক্ষমতাসীন দল ব্যতীত অন্যান্য পক্ষে সমর্থিত মানুষের অভাব, অভিযোগ, দাবী পূরণে কোন কাজ হয় না।
  • সকল জনগনকে একভাবে দেখা হলেও, কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিটি সদস্যের মাঝে সমান আগ্রহ না-ও থাকতে পারে; এই বিষয়টি অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
  • জনগণের প্রয়োজন এবং জনপ্রতিনিধির সিদ্ধান্তের মাঝে সমন্বয়হীনতার সুযোগ থাকে।
  • প্রতিনিধিত্বশীল পরোক্ষ গণতন্ত্রের কারণে জনগনের প্রত্যাশা পূরণ না হবার আশংকা থেকে যায়।
  • সুশাসন বিহীন গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগনের চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থ হাসিলের সুযোগ বেশি থাকে।
  • ক্ষমতাসীন শক্তির পক্ষে নানা ধরনের পক্ষপাতমূলক সুবিধা পরিলক্ষিত হয়।
  • জনগণের ভোটাধিকারকে ব্যবহার করে নানা ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার সুযোগ থাকে।

গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার নানান সীমাবদ্ধতা, পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন দিক রয়েছে, একথা যেমন ঠিক। তেমনি একথাও অনস্বীকার্য, অতীতের যে কোন শাসন ব্যবস্থার তুলনায় গণতন্ত্রের সাহায্যে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সক্ষমতা দেখাতে সমর্থ হয়েছে।

মৌলিক গনতন্ত্র কি? বৈশিষ্ট্যঃ

মৌলিক গণতন্ত্র হল এমন এক ধরণের সীমিত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা যেখানে সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রদানের পরিবর্তে কিছু সংখ্যক নির্ধারিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জাতীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের করা হয়।মৌলিক গণতন্ত্র (Basic Democracy) হলো জেনারেল আইয়ুব খানের এক অভিনব শাসন ব্যবস্থা। ১৯৫৮ সালে এক সামরিক অভ্যূত্থান ঘটিয়ে আইয়ুব খান পাকিস্তানের শাসনভার গ্রহণ করে। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৫৯ সালে ২৬ অক্টোবর ক্ষমতা গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মৌলিক গণতন্ত্র নামে এক ধরণের শাসন ব্যবস্থার আদেশ জারি করেন। তাই আইয়ুব খানকে মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার প্রবর্তক বলা হয়।

আইয়ুব খান পাকিস্তানের উভয় প্রদেশে নতুন চার স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করেন। মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থা একাধিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য গঠন করা হয়েছিল। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছিল যে এটি জনগণের ইচ্ছাকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারী কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ সম্পন্ন করবে। আইয়ুব খান বলেন, ”It will be a foundation stone of a new political system in the country.” অর্থাৎ এটি হবে দেশে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর।

মৌলিক গনতন্ত্র এর বৈশিষ্ট্যঃ

১৯৪৭ সালের পর থেকে স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত বাংলার মানুষকে শাসনক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ক্ষমতাকে একচেটিয়া করার জন্য ‘মৌলিক গনতন্ত্র’ ছিলো এমনই একটি ব্যাবস্থা। পরোক্ষভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যা ছিলো আশি হাজার। ১৯৫৯ সালের ২৬ শে অক্টোবর এক আদেশ জারির মাধ্যমে ‘মৌলিক গনতন্ত্র’ চালু করা হয়। ১৯৬০ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম মৌলিক গনতন্ত্রী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং একই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হ্যা-না ভোটের মাধ্যমে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অর্থাৎ দেশের সরকার প্রধান বা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণ বা প্রত্যক্ষ ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়। মৌলিক গনতন্ত্র ব্যাবস্থার বিশেষত্ত ছিলো যে, মৌলিক গনতন্ত্রী ৮০০০০ সদস্যগণ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিকা রাখতো।আইয়ুব খান ‘মৌলিক গনতন্ত্র’ কে ব্যাবহার করে নির্বাচিত হওয়ার পরে সংবিধান প্রনয়ণ করার ক্ষমতা লাভ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬২ সালের ১লা মার্চ সংবিধান ঘোষণা করা হয়। সংবিধান প্রনয়নের বৈশিষ্ট্য ছিলো যে, সারা দেশ থেকে মৌলিক গনতন্ত্রের নির্বাচিত ৮০০০০ সদস্যবৃন্দ প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নির্বাচন করতে পারবেন। আইয়ুব খান তার প্রণিত এই গণতান্ত্রিক মডেলে তিনি সাফল্য লাভ করেন এবং ১৯৬৫ সালে জনগণকে ভোট দান থেকে বঞ্চিত করে এসব ৮০০০০ নির্বাচিত সদস্যের মাধ্যমে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং নিজেকে নির্বাচিত শাসক ঘোষণা করেন।মৌলিক গনতন্ত্রকে মোট পাচটি স্তরে বিভক্ত করা হয়েছিলো। স্তরগুলো ছিলো একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের। পাচ স্তর বিশিষ্ট এই গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় ছিলো ইউনিয়ন কাউন্সিল, থানা, জেলা, বিভাগীয় এবং প্রাদেশিক কাউন্সিল। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কাঠামোর অংশ হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা হয়েছিলো। মৌলিক গনতন্ত্র কাঠামোতে সরাসরি জনগণের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে বাধা সৃষ্টি করেছিলো। আসুন জেনে নেই চার স্তর বিশিষ্ট ‘মৌলিক গনতন্ত্র’ কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। 

  • ইউনিয়ন কাউন্সিলঃ ইউনিয়ন কাউন্সিল ছিল মৌলিক গণতন্ত্রের সর্বনিম্ন স্তর। ৫ থেকে ৮ টি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন কাউন্সিল গঠিত হয় যার জনসংখ্যার সীমা ছিল প্রায় ১০,০০-১৫,০০০ জন। পৌর এলাকায় এটির নাম ছিল ইউনিয়ন কমিটি এবং ছোট শহরে এর নাম ছিল টাউন কমিটি। সর্বমোট ১৫ জন সদস্য নিয়ে একটি ইউনিয়ন কাউন্সিল  গঠিত। এর মধ্যে ১০ জন জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হত, বাকি ৫ জন মনোনীত। কিন্তু ১৯৬২ সালে এই মনোনয়ন পদ্ধতি বাতিল করা হয়।
  • কার্যাবলী: এই কাউন্সিলগুলোর সদস্যদেরকে বিচার বিভাগীয়, অর্থনৈতিক, কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন উন্নয়নের মতো বিভিন্ন কার্যভার দেওয়া হয়। সবশেষে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এই ইউনিয়ন পরিষদকে ইলেক্টোরাল কলেজে রূপান্তর করা হয়।
  •  থানা কাউন্সিলঃমৌলিক গণতন্ত্রের স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার দ্বিতীয় স্তর ছিল থানা কাউন্সিল। এই পরিষদে কোনো নির্বাচন হত না। এটি কিছু অফিসিয়াল এবং কিছু বেসরকারী সদস্য নিয়ে গঠিত। বেসরকারী সদস্যদের মধ্যে ছিলেন থানার অন্তর্গত সকল ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং অফিসিয়াল সদস্যদের মধ্যে ছিলেন থানার সকল সরকারি কর্মকর্তা। অফিসিয়াল সদস্য সংখ্যা ছিল বেসরকারী সদস্যদের সমান। এই থানা কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন মহকুমা প্রশাসক।
  • কার্যাবলী: এটি থানার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ইউনিয়ন কাউন্সিলের মধ্যে এবং জেলা একটি সমন্বয়কারী সংস্থা হিসাবে কাজ করত।
  • জেলা কাউন্সিলঃ থানা কাউন্সিলের ওপরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর ছিল জেলা কাউন্সিল। এর সদস্য সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪০ জন যার অর্ধেক সদস্য ছিল সরকারী কর্মকর্তা এবং বাকি অর্ধেক নির্বাচিত প্রতিনিধি। এসব নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিভিন্ন ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানদের থেকে নির্বাচিত হত। অফিসিয়াল বা সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল এস ডি, নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা কৃষি কর্মকর্তা, বন বিভাগীয় কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, বিদ্যুত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা আনসার এডজুটেন্ট, এবং সহকারী রেজিস্টার ইত্যাদি।
  • কার্যাবলী: জেলা কাউন্সিল আর্থিক এবং নির্বাহী ক্ষমতা সম্পাদন করত। এছাড়া জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন উন্নয়ন ফাংশন এবং কর আরোপ করতে নিয়োজিত ছিল। জেলা প্রশাসকের কার্যাবলী ও ক্ষমতা ২ ভাগে বিভক্ত ছিল।
  • বাধ্যতামূলক: বাধ্যতামূলক ফাংশন সমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল বিদ্যালয়, গ্রন্থাগার হাসপাতাল, পাবলিক রাস্তা, খেলার মাঠ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা এবং রক্ষণাবেক্ষণ।
  • ঐচ্ছিক: ঐচ্ছিক ফাংশনগুলোর মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থা, মানুষের সংস্কৃতি, সামাজিক, অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত।
  • মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর ছিল বিভাগীয় কাউন্সিল। সর্বমোট ৪৫ জন সদস্য নিয়ে বিভাগীয় কাউন্সিল গঠিত হয় যাদের অর্ধেক ছিল সরকারী কর্মকর্তা এবং বাকি অর্ধেক ছিল জেলা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিবর্গ। বেসরকারী সদস্যদের প্রায় অর্ধেক ইউনিয়ন কাউন্সিল থেকে নির্বাচিত হতেন।
  • বিভাগ কাউন্সিলঃবিভাগীয় কমিশনার তার পদাধিকার বলে বিভাগীয় কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিভাগীয় কাউন্সিলের কার্যালীর মধ্যে ছিল বিভিন্ন জেলা কাউন্সিলের সাথে সমন্বয় করা।

উপসংহার

প্রাচীন গ্রীসে যখন গণতন্ত্রের যাত্রা হয়, তখন থেকে কালের বিবর্তনে গণতন্ত্র আজ এমন আধুনিক রূপ লাভ করেছে। যেখানে জনগণই শেষ কথা। জনগণ তাদের ইচ্ছামতো শাসক নির্বাচন করবে। তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। কিন্তু পাকিস্তান জান্তা শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে দীর্ঘ ২৩ বছর তাদের পদানত করে রেখেছে। তাদের ইচ্ছামতো শাসনতন্ত্র কায়েম করেছে। মৌলিক গনতন্ত্র ব্যাবস্থা ছিলো তেমনি একটি ব্যাবস্থা। ক্ষমতাকে ধরে রাখা ও বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করাই ছিলো এর মূল উদ্দেশ্য। আমাদের গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য অনেক জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছে। বাঙ্গালির স্বাধীকার আন্দোলন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মৌলিক গনতন্ত্র নামক নীলনকশা টিকতে পারেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *