মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি?

মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি ?  আমাদের সমাজের অনেক মানুষ নানা কারণে মানসিক রোগে ভুগে থাকেন । বিশেষ করে বর্তমান যুবসমাজ মানসিক রোগের সবচেয়ে বেশি হবে । মানুষের জীবনে এমন একটা সময় যখন মানুষ আর্থিক , সাংসারিক এবং ক্যারিয়ার সহ নানা চিন্তায় দুমড়ে-মুচড়ে পরে । মূলত এই অবস্থাকে বলা হয় তাকে মানসিক রোগ । 

মানসিক রোগ হওয়ার অর্থই পাগল হওয়া নয় । মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানার প্রশ্ন করে থাকেন তারা নির্ঘাত এই রোগে ভোগেন । 

মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি । চলুন মানসিক রোগ থেকে পরিত্রান পাওয়ার ব্যবস্থা করা যাক ! 

মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি?

পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দেন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে গল্প করুন 

এটি মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম একটি পন্থা । আপনার যদি পরিবারের সকল সদস্যদের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকে তাহলে সেই ক্ষেত্রে কেবলমাত্র তাদের সাথে গল্পগুজব করার মাধ্যমে আপনি মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন । 

তবে অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরাই মানসিক রোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে । এমতাবস্থায় বন্ধুবান্ধব অথবা আত্মীয় স্বজনদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলুন। 

নিজেকে  সব সময় প্রডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন 

নিজেকে সবসময় প্রডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন এবং এমন কিছু করুন যার মাধ্যমে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন । সে ক্ষেত্রে আপনি এখানে আপনার স্কিল অথবা ভালোলাগার বিষয়বস্তুকে পছন্দ বেছে নিতে পারেন । 

যেমন আপনি যদি লিখতে ভালোবাসেন তাহলে আপনার লেখনীর মাধ্যমে প্রডাক্টিভ কিছু করুন । এবং একটি লক্ষ্য স্থির করুন । লক্ষ্যটি কিছুটা এমন হবে যে, আপনার লেখনি অনেকের কাছে পৌঁছে দেওয়া অথবা আপনার লেখনীর মাধ্যমে  অর্থ উপার্জন করা । 

মূলত এটিকে বলা হয়ে থাকে প্রডাক্টিভ কাজ ।  গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে প্রডাক্টিভ কাজ করার মাধ্যমে মানুষজন মানসিক রোগ থেকে অনেকখানি মুক্তি পেতে পারেন । 

এমন কিছু কাজ থেকে বিরত থাকুন যেকোনো আপনি অপছন্দ করেন,অথচ আপনাকে জোরপূর্বক সে কাজগুলি করতেই হয় । মনের বিরুদ্ধে কখনো কিছু করতে যাবেন না । 

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমের নিশ্চয়তা প্রদান করুন 

ঘুম মানুষের সকল হতাশা এবং মানসিক রোগ সারিয়ে তোলার মোক্ষম হাতিয়ার । তাই মানসিক রোগ থেকে বেঁচে থাকতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমের নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। চেষ্টা করুন প্রতিদিন আগেভাগে বিছানায় যাওয়ার । এবং সম্ভবপর হয় তবে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে সকালবেলার প্রকৃতি ঘুরে দেখতে পারেন । 

সকালবেলা আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে এবং পাখিদের কিচিরমিচির শুনতে পাওয়া যায় । যেটি একজন মানুষের মন ভালো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট । এটি মানুষের কমন সাইকোলজি ! 

ধর্মীয় অনুশাষন মেনে চলুন 

মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় সম্পর্কে মানুষের যাই বলুক না কেন এবং যত রকমের উপায় বাতলে দিক না কেন কোন ব্যক্তি যদি ধর্মীয় অনুশাসন নামে না থাকে তাহলে তার মানসিক প্রশান্তি কোনমতেই অর্জিত হবে না । 

মানুষ চাইলে একমাত্র ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে এবং ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলার মাধ্যমে মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পায় । 

সে কারণে আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, আপনার আশপাশের সংশয়বাদী মানুষগুলো সর্বদা কোন না কোন মানসিক সমস্যায় ভোগেন । কিন্তু যারা ধার্মিক এবং প্রকৃত ধর্ম চর্চা করেন তারা কখনো মানসিক সমস্যায় ভোগে না । এটি মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় গুলির ভেতরে উৎকৃষ্ট । 

তবে এমনও হতে পারে যে, আপনি সংশয়বাদিতা থেকে মানসিক রোগে ভুগতে পারেন । যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে একজন ভালো ইসলামিক স্কলার এর কাছে গিয়ে আপনার সকল সংশয় দূর করে আনতে পারেন । 

আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত চেষ্টা করতে পারেন যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনার সকল সংসার দূর না হয়। 

সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখুন 

এটি  মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় গুলির ভেতরে অন্যতম। আপনি ভালো ছবি আঁকতে পারেন ছবির মাধ্যমে আপনি আপনার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন । এছাড়াও চাইলে ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এ শেয়ার করে আপনার ক্রিয়েটিভিটি দেখাতে পারেন । 

এছাড়া আপনি যদি ভালো গান জেনে থাকেন তাহলে সে ক্ষেত্রে গান গাওয়ার মাধ্যমে আপনার মনের কষ্টগুলো  দূর করার চেষ্টা করতে পারেন ।  

আপনি যে স্কিল অথবা যে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত সেই সৃজনশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করুন এবং মানুষকে শেখানো ।  মানুষের শেখানোর মাধ্যমে অনেক সময় মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব । যখন আপনি কাউকে কোন কিছু শেখাবেন তখন আপনার প্রতি সেই ব্যক্তির একটি আগ্রহ বা চাহিদা সৃষ্টি হবে । এবং এটি আপনাকে মানসিকভাবে  প্রশান্তি দেবে । 

অন্তত এইটুকু ভেবে যে এ পৃথিবীতে আপনার প্রতি কেউ একজন আগ্রহ প্রকাশ করেছে অথবা আপনার প্রতি তার কোন চাহিদা রয়েছে । 

কোন চ্যালেঞ্জে মুহূর্ত বিচক্ষণতার সাথে হ্যান্ডেল করুন  

যখনই আপনি কোন ধরনের চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন তখন চেষ্টা করুন বিচক্ষণতার সাথে সেঁটি মোকাবেলা করার । 

এবং আপনি যদি এতে ব্যর্থ হন তবুও কোন আফসোস নেই । এটি আপনাকে মানসিক ভাবে আরো বেশি শক্তিশালী করবেন । সে কারণে এটি মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে । 

জীবনে চ্যালেঞ্জ নিতে শিখুন । চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবকিছু জোগাড়ে জান লড়িয়ে দিন । 

সস্তা মোটিভেশনাল স্পিকারদের কাছ থেকে বিরত থাকুন

বর্তমানে ইউটিউবসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এর সস্তা মোটিভেশনাল স্পিকারদের রয়রঙ্গ দেখলে একজন মানুষ এমনিতেই মানসিক রোগীতে  পরিণত হবে। এ ধরনের মোটিভেশনাল স্পিকার তার কাছ থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকুন । 

এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা নিজেরাই বিভিন্ন ধরনের মানসিক বিপর্যস্ততার শামিল। 

এছাড়াও যারা আপনার মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করার পেছনে অন্যতম কারণ তাদের কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন । এর ফলে যদি সম্পর্ক বিচ্ছেদের প্রয়োজন পড়ে তবে সেটিও করে ফেলুন। আপনি যদি একবার উপলব্ধি করতে পারেন যে এই ব্যক্তি আমার মানসিক সমস্যার সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে তবে তাকে সাথে সাথে বাস্তব জীবনের ব্লক লিস্টে পাঠিয়ে দিন ।  

স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হোন 

স্বাস্থ্য সকল সুখের চাবিকাঠি এবং স্বাস্থ্যের সাথে মনের একটি মনের একটি গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।  সম্পৃক্ততা রয়েছে । 

সুতরাং আপনি যদি স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হন তাহলে এর অর্থ তারা আপনি আপনার মনের প্রতিও যথেষ্ট যত্নবান ।সে কারণে বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল । 

প্রতিদিন নিয়মিত পর্যাপ্ত হাঁটাচলা করুন এবং শারীরিক ব্যায়াম করুন । পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ করুন। সকল পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্তভাবে গ্রহণ করার জন্য যা যা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন-  সবকটি গ্রহণ করুন । 

সবচেয়ে বড় কথা – মনটাকে কখনো ফেলনা মনে করা যাবে না। মনে রাখবেন আপনার জীবনের দাম মূল্য । সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত পৃথিবীর কারো ক্ষমতা নেই আপনার জীবনের মূল্য চোকানোর ! 

এবং তার পাশাপাশি এটিও  মনে রাখবেন যে- নিজের মানসিক সমস্যা গুলো কি কেবল আপনি ব্যতীত আমি উপলব্ধি করতে পারবে না । স্বয়ং এই আর্টিকেলের লেখকও নয় ! 

READ MORE:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *