সুষম খাদ্য কাকে বলে | সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য

আমাদের সবার জন্য সুষম খাদ্য কাকে বলে বিষয়টি জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সকলে নানা বিধ বিষয় সম্পর্কে জেনে থাকি কিন্তু আমাদের জানার কোনো শেষ নেই। niyoti.com ওয়েবসাইটে আপনি বিভিন্ন প্রশ্নের উক্তর খুঁজে পাবেন, যা  জেনে অনেক উপকৃত হতে পারেন। আপনাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে বিস্তারিত তথ্য এখানে তুলে ধরেছি। আশা করছি এটি আপনাকে খুব ভালোভাবে সাহায্য করবে।

সুষম খাদ্য

শর্করা, আমিষ, স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাবার, ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানি; এই ছয়টি খাদ্য উপদান মানবদেহের সার্বিক পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য অতি জরুরী। মানবদেহের সার্বিক পুষ্টিচাহিদা পূরণ এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন এই উপাদানগুলোকে একটি সঠিক অনুপাতে খাওয়া প্রয়োজন।

 

সুষম খাদ্য কাকে বলে এ সম্পর্কে  নিম্নে  কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করা হলো।
১/ যে সকল খাদ্যে প্রধান ছয়টি খাদ্য উপাদান (শর্করা, আমিষ, স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাবার, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি) এগুলো খাবারের তালিকায় সঠিক অনুপাতে উপস্থিত থাকলে তাকে সুষম খাদ্য বলে।

২/ যে সব খাদ্য মানুষের প্রয়োজনীয় সার্বিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারে তাদেরকে সুষম খাদ্য বলা হয়।

 

৩/ যে খাবার খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান যথা কার্বো হাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন মিনারেল প্রভৃতি নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে।

 

আরো পড়ুন – পদার্থ বিজ্ঞানের জনক কে? প্রাচীন, আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের জনক

 

আমিষ: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম, কলিজা ও বীজজাতীয় খাবার আমিষের প্রধান উৎস। প্রাণিজ আমিষের উৎস মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি।

 শর্করা:  সাধারণত ভাত, রুটি, চিড়া, মুড়ি, খই, ওটস, নুডলস,  আলু, পাস্তা জাতীয় খাবার শর্করার প্রধান উৎস। শর্করাজাতীয় খাবারের মধ্যে বিশেষত জটিল শর্করা, যেমন গমের আটার রুটি, লাল চাল, ওটস—ইত্যাদি।

ভিটামিন ও খনিজ লবণ: শাক-সবজি ও ফলমূল ভিটামিন ও খনিজ লবণের প্রধান উৎস। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এই দুটি খাদ্য উপাদানই আমাদের জন্য খুব জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, দেশীয় ফলকে প্রাধান্য দেয়া জরুরি।

স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাবার: তেল, ঘি, মাখন স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাবার। বিশেষত হেলদি ফ্যাট, যেমন: অলিভ, সরিষা, সানফ্লাওয়ার বা বাদামের তেলকে প্রতিদিনের খাবারের মাঝে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন।

পানি:  শারীরিক ও মানসিক কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন রাখতে দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিৎ।

দুধ ও দুধজাতীয় খাবার: দুধ, দই, ছানা, পনির দেহের ক্যালসিয়াম, ফসফরাস সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদানের পাশাপাশি ও আমিষের চাহিদাকেও পূরণ করে থাকে।

সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য

সুস্থ, সবল ও উন্নত জীবনযাপনের জন্য সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। দেহের পরিপুষ্টির জন্য ছয় উপাদানবিশিষ্ট খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করে সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য পরিকল্পনা করা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সুষম খাদ্যের ৫টি বৈশিষ্ট্যঃ

  1. বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকবে।
  2. শর্করা, আমিষ ও চর্বি নির্দিষ্ট অনুপাতে পরিমাণ মতো থাকবে।
  3. প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও খনিজ লবণ থাকবে।
  4. সুষম খাদ্য অবশ্যই – সহজপাচ্য হবে।
  5. খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও রাফেজ বা সেলুলোজ (ফাইবার) সরবরাহের জন্য সুষম খাদ্যতালিকায় ফল ও টাটকা শাকসবজি থাকতে হবে।

 

পরিশেষে আশা করা যায় যে সুষম খাদ্য কাকে বলে বিষয়টি সুন্দরভাবে বুঝতে পারছেন। এছাড়া বুঝতে সমস্যা হলে  নিচে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে কমেন্ট করে সমস্যাটি জানানোর অনুরোধ রইলো। আর যদি সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য এটি ভালো ভাবে বুঝে থাকেন তা হলেও মন্তব্য করতে পারেন।

Leave a Comment