বাক্য কাকে বলে?বাক্য কত প্রকার ও কী কী ? 

বাক্য কাকে বলে

বাক্য কাকে বলে? বাক্য বাংলা ব্যাকরণ এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচিত বিষয় । তবে আমরা অনেকেই জানিনা যে বাক্য কাকে বলে । আমরা যারা মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী রয়েছে তারা যদি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে আসা বাক্যের সংজ্ঞা দিতে যাই তবে তা মোটেও গ্রহণযোগ্য হবে না । বাক্যের মূলত একটি সুনির্দিষ্ট সংখ্যা রয়েছে যেটি বাক্যের গঠনের উপর ভিত্তি করে দেয়া হয় । বলতো আজকের আর্টিকেলে আমরা বাক্যের বেশ কিছু খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জেনে নিব যা আপনার কেরিয়ারে কখনো না কখনো কাজে লাগবে । 

বাক্য কাকে বলে ?

কতগুলো সুসংগঠিত এবং অর্থবোধক শব্দ ব্যাকরণের নিয়মে একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট ভাব প্রকাশকারী শব্দ সমষ্টিকে বলা হয়ে থাকে বাক্য । 

অর্থাৎ বাক্য মূলত একটি শব্দসমষ্টি যেটি নির্দিষ্ট অর্থ সংবলিত এবং এটি মানুষের মনের সম্পুর্ণ অথবা অংশ ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম । 

বাক্যকে ভাষার মূল উপকরণ বলা হয়ে থাকে । বাক্যের গঠনের ওপর ভিত্তি করে বাক্যকে বিভিন্নভাবে শ্রেণীবিভাগ এর আওতায় আনা যেতে পারে ।  

যেহেতু আমরা জেনেছি বাক্য কাকে বলে, এবার আমরা বাক্যের প্রকারভেদ সম্পর্কে জানতে চলেছি। 

বাক্য কত প্রকার ও কী কী ? 

বাক্যের গঠন এবং বাক্যের ধরনের ওপর ভিত্তি করে বাক্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে । 

গঠন অনুসারে বাক্য কত প্রকার?

গঠন অনুসারে বাক্য কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে । 

  •  সরল বাক্য
  •  জটিল বাক্য 
  • মিশ্র বাক্য ।

সরল বাক্যঃ যে বাক্যে কেবলমাত্র একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে বলা হয় সরল বাক্য । 

জটিল বাক্যঃ যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া এবং অপরটি অসমাপিকা ক্রিয়া হয়ে থাকে তাকে বলা হয় জটিল বাক্য। 

মিশ্র বাক্য কাকে বলে –  যে বাক্যে দুইটি সরল বাক্য থাকে তাকে বলা হয় মিশ্র বাক্য। 

চলুন প্রত্যেকটির একটি করে উদাহরণ দেখে নেওয়া যাকঃ 

সরল বাক্যঃ

  • আমি প্রতিদিন আর্টিকেল লিখি।
  • আমি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি না । 
  • আমি তার সাথে কথা বলতে লজ্জাবোধ করি।

জটিল বাক্য

  • যদিও সে গরীব তবুও তার প্রচুর টাকা-পয়সা রয়েছে । 
  • যদি তুমি আসো তবেই আমি যাব ।  
  • যদিও আমি তাকে ভালোবাসি তবুও সে আমাকে ঘৃণা করে ।

মিশ্র বাক্যঃ

  • রহিম আমার ছোট ভাই এবং করিম আমার বড় ভাই ।
  • বাংলাদেশ একটি সুজলা সুফলা দেশ কিন্তু এই দেশের মানুষের মুখে হাসি নেই । 
  • আমরা নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করেছি এবং আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি । 

অর্থ অনুসারে বাক্য কত প্রকার ও কী কী?

বাক্য কাকে বলে

এছাড়াও বর্ণনা অনুযায়ী বাক্য কে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। 

  • বিবৃতিমূলক – মূলত এই ধরনের বাক্যের মাধ্যমে একটি ব্যক্তির মনের ভাব প্রকাশ করা হয়ে থাকে। অথবা এর মাধ্যমে সাধারণ বিবৃতি প্রকাশ পায় । এটি হ্যা বোধক অথবা না বোধক হতে পারে । প্রতিটি বিবৃতিমূলক বাক্যের শেষে দাড়ি বিরাম চিহ্ন ব্যবহৃত হয় । বিবৃতিমূলক বাক্য শুধুমাত্র নিরপেক্ষভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে । এর মাধ্যমে ব্যক্তি মনের আবেগ সম্পূর্ণ রূপে প্রকাশ পায় না । উদাহরণঃ আমি প্রতিদিন স্কুলে যাই।
  • প্রশ্নবাচক –যে বাক্য দ্বারা প্রশ্ন করা হয়ে থাকে সেই সকল বাক্য কে প্রশ্নবোধক বা প্রশ্ন বাচক বাক্য বলা হয় । এই সকল বাক্যের মাধ্যমে মূলত একটি ব্যক্তি মন কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে থাকে এবং তার মধ্যে আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয় । অর্থাৎ আমরা বলতে পারি যে বাক্যের মাধ্যমে ব্যক্তি মনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়ে থাকে তাকে বলা হয় প্রশ্ন বাচক বাক্য । উদাহরনঃ আমি কি প্রতিদিন স্কুলে যাই না ? 
  • আদেশসূচক-এ বাক্যের মাধ্যমে মূলত কোন আদেশ প্রকাশ পায় । তবে শুধু আদেশ নয় তার পাশাপাশি উপদেশ বা অনুরোধ প্রকাশ পেতে পারে । এই বাক্যে অনেক সময় কর্তা উহ্য থাকতে পারে । তবে যদি সরাসরি কর্তা থেকে থাকে,তাহলে সেটিকে আদেশসূচক বাক্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না করে বিবৃতিমূলক বাক্য বলা যেতে পারে । উদাহরণঃ স্কুলে যাও! 
  • প্রার্থনাসূচক-এই বাক্যের মাধ্যমে ব্যক্তি মোহন আকাঙ্ক্ষাসূচক প্রার্থনা  প্রকাশ করে থাকে । উদাহরণঃ সৃষ্টিকর্তা তোমার মঙ্গল করুক ! 
  • অনুজ্ঞাবাচক-এই বাক্যের মাধ্যমে ব্যক্তি  মনের আবেগের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে । বাক্যের শেষে একটি আশ্চর্য বোধক বিরাম চিহ্ন ব্যবহৃত হয় ।  উদাহরণঃ হায় !আমি আর্টিকেলটি র‍্যাংক করাতে ব্যার্থ! 

বাক্য গঠনের উপাদান

বাক্য গঠণের জন্য যে সকল উপাদানের প্রয়োজন পড়ে তাদেরকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। 

  • যোগ্যতা
  • আসত্তি
  • আকাঙ্খা

একটি স্বার্থক বাক্য গঠনের জন্য এই শর্তগুলোর প্রয়োজন পড়বে। যদি একটি বাক্য এই শর্তগুলো থেকে থাকে তবেই সেটিকে একটি স্বার্থক বাক্য বলা যেতে পারে।

চলুন বিস্তারিতভাবে বাক্যের এই উপাদানগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক ! 

যোগ্যতা-

একটি বাক্য গঠনের জন্য যোগ্যতা আবশ্যক। যদি বাক্যের যোগ্যতা না থেকে থাকে তবে সেটিকে স্বার্থক বাক্য বলা যাবে না। যেমনঃ মানুষ ভাত খায়। 

এখানে বাক্যের যোগ্যতা বজায় রয়েছে। কেননা মানুষ প্রধানত ভাতই খেয়ে থাকে। 

যদি লেখা হয়ঃ হাতি আকাশে উড়ে, তাহলে সেক্ষেত্রে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারাবে,কেননা হাতি আকাশে উড়তে পারে না। মূলত এটিই যোগ্যতার মূল কনসেপ্ট। চলুন এবার জনে নেওয়া যাক আসত্তি সম্পর্কে। 

আসত্তি-

বাক্যের প্রতিটি শব্দ পরপর সাজিয়ে যদি সেটিকে অর্থসঙ্গত করা হয়ে থাকে তবে সেটিকে বলা হয় আসত্তি। আসত্তি বাক্যের একটি আবশ্যক বৈশিষ্ট্য। যেটি না থাকলে বাক্য গঠিত হবেনা। 

একটি উদাহরণের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা যাক ! যদি বলা হয়ে থাকে, সে আমার সাথে দেখা করেনি। তাহলে এটি একটা স্বার্থক বাক্য হবে, কেননা অর্থসঙ্গতি রক্ষার লক্ষ্যে বাক্যের প্রতিটি শব্দকে যথাস্থানে স্থাপন করা হয়েছে। তবে যদি বলা হয়ে থাকে, 

“আমার সে সাথে করেনি দেখা” তাহলে বাক্যে একটি গোলোযোগ পেকে যাবে। যার ফলে বাক্য তার স্বাভাবিক রূপ হারাবে, এবং এটিকেই বলা হয়ে থাকে আসত্তীহানি। অর্থাৎ এখানে আসত্তির প্রয়োগ ঘটেনি। 

আবার যদি বলা হয়, সে বাড়ি গিয়ে ভাত খেলো।তাহলে সেক্ষেত্রে এটি একটি স্বার্থক বাক্যে পরিনত হবে। তবে যদি বলা হয়ে থাকে সে ভাত গিয়ে বাড়ি খাবে, তাহলে এখানে আসত্তি লোপ পাবে। এবং শুধু আসত্তিই নয় তার পাশপাশি যোহ্যতাও অনেকাংশে লোপ পাবে। 

আকাঙ্খা

বাক্যে আকাঙ্খা হলো এমন একটি উপাদান যার মাধ্যমে বাক্য শ্রোতার বাক্য শোনার প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয় এবং সেই আগ্রহ পূরণ হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারেঃ 

তুই বাড়ি গিয়ে…। এখানে বাক্যটি সম্পূর্ণ হয়নি বিধায় এখানে বাক্য শোনার আগ্রহ পুরো হয়নি। যার ফলে এখানে আকাঙ্খা লোপ পেয়েছে। আকাঙ্খা লোপ পেলে বাক্য অসম্পূর্ণ থেকে যায় ফলে আমরা সেটিকে স্বার্থক বাক্য বলতে পারি না । 

যদি বিষয়টি এমন হয় যে , তুই বাড়ি গিয়ে ভাত খাবি । তাহলে সেক্ষেত্রে বাক্যটির একটি পূর্ণ ভাব প্রকাশ পেয়েছে যার ফলে আমরা এটিকে একটি স্বার্থক বাক্য বলতে পারি। 

এছাড়াও একটি সার্থক বাক্য গঠনে আরো বেশ কিছু গুণাবলী প্রয়োজন পড়ে। তবে তার মধ্যে এই তিনটি প্রধান । 

আজকের আর্টিকেল এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল বাক্য কাকে বলে , বাক্য কত প্রকার ও কী কী সে সম্পর্কে ! আর্টিকেলটির মাধ্যমে যদি কোনো শিক্ষার্থী বিন্দুমাত্র উপকৃত হয়ে থাকো তবে,তোমাকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে পেরে আমরা সার্থক ! শুভকামনা রইল ! 

আরো পড়ুনঃ

মৌলিক সংখ্যা কাকে বলে? ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা!

অর্থনীতি কাকে বলে? অর্থনীতির জনক কে ? 

ব্যাপন কাকে বলে |ব্যাপনের বৈশিষ্ট্য লিখ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *