ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও যতো গুনাগুন!

ড্রাগন ফলের উপকারিতা

ড্রাগন ফলের উপকারিতা : আমাদের এই পৃথীবিতে যত ফলফলাদি রয়েছে তার সবগুলোই কোনো না কোনো গুনে পরিপূর্ণ । ফলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি উপাদান,মিনারেলস,ভিটামিনস সহ আরো কতো কি! ফল খেতে সুস্বাদু এবং খুবই উপাদেয়।

দেশী ফলগুলোর পুষ্টি উপাদান তুলনামূলক বেশি হলেও এমন কিছু ভিনদেশী ফল রয়েছে যা খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। তেমনই একটি ফল ড্রাগন ফল ! 

ড্রাগন ফলের উপকারিতা আর গুনের কথা বলে শেষ করা যাবে না ।  

ড্রাগন ফলের উপকারিতা- 

নিম্নে এমনই কিছু বিষ্ময়কর উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হলোঃ

ড্রাগন ফলের উপকারিতা
ড্রাগন ফলের উপকারিতা

বিভিন্ন প্রদাহ থেকে বাচাতে পারে ড্রাগন ফল-

শরীরের বিভন্ন অঙ্গের প্রদাহ থেকে বাচাতে পারে ড্রাগন ফল।ফুসকুড়ি রোধ করে। বিশেষ করে মধ্যকর্নের প্রদাহ ও ফুসফুসের প্রদাহ রোধ করতে এটি বিশেষভাবে কার্যকর। ড্রাগন ফলে রয়েছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল – যা দেহে ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে। পাশাপাশি দেহে পর্যাপ্ত পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতেও বিশেষভাবে কার্যকর। 

আয়রনের ঘাটতি পুষিয়ে তোলে ড্রাগন ফল

ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমানে আয়রন রয়েছে। যা দেহে রক্তের পরিমান বৃদ্ধি করে এবং রক্তশূন্যতা রোধ করে শরীরে পর্যাপ্ত রক্তের জোগান দেয়।

এবং শুধু তাই নয়,এটি রক্তে হিমোগ্লবিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রক্ত কনিকাগুলোকে আরো বেশী কার্যকর করে। 

আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে মানুষ লো প্রেসারে ভুগতে পারে।

আয়রন আমাদের দেহে একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করে,যেটি বিভিন্ন প্রাণরাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 

এছাড়া স্টেপটক্কাস নামক ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে। অস্থিমজ্জার পরিমান বৃদ্ধি করে। শরীরে ভিটামিনের কার্যকারিতা বেগবান করে। 

পটাশিয়ামে পরিপূর্ণ ড্রাগন ফল

ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম রয়েছে।পটাশিয়াম দেহের প্রত্যেকটি শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। তার পাশাপয়াশি পটাশিয়ামে ঘাটতিপূরণ করে দেহের কাঠামো মজবুতে অংশগ্রহণ করে। 

২৫০ গ্রাম ড্রাগন ফলে যে পরিমানে পটাশিয়াম থাকে,তা দিয়ে সাড়া বছরের পটাশিয়ামের ঘাটতিপূরণ হয়ে যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদেরা। 

প্রোটিনে পরিপূর্ণ ড্রাগন ফল

ড্রাগন ফলের উপকারিতা গুলির ভেতরে অন্যতম হলো এতে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন রয়েছে। প্রোটিন হলো সেই পুষ্টি উপাদান যা আমাদের দেহের ক্ষয় রোধ করে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে তোলে । আমাদের শরীরে যত রকমের প্রোটিন রয়েছে তার মধ্যে অ্যালবুমিন এবং গ্লোবিউলিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন উপাদান বলে বিবেচিত । 

মাত্র ১৫০ গ্রাম ড্রাগন ফলে দশটি মাঝারি সাইজের মাংসের টুকরো সমান প্রোটিন রয়েছে । কাজেই বুঝতেই পারছেন প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে এটি কতটুকু কার্যকর ! 

প্রোটিনের পাশাপাশি এতে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে । কার্বোহাইড্রেট মূলত আমাদের শরীরে কর্মশক্তি জোগায়, যার ফলে আমরা পেশী চালনা করে,আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজকর্ম করি এবং আমাদের শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয় । 

তবে ড্রাগন ফলে কার্বোহাইড্রেট পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে সুগার রয়েছে । যদিও ড্রাগন ফল খাওয়ার সময় তা খুব একটা মালুম করা যায় না। এটি কিছুটা সাদা আটার “সুগারের” মতো – যাকে বলে “সাইলেন্ট সুগার”। 

ক্যালসিয়াম – ড্রাগন ফলের উপকারীতা গুলোর ভেতর অন্যতম! 

ক্যালসিয়াম হলো আমাদের দেহের অভ্যন্থরের কাঠানো প্রদানকারী একটু উপাদান। এটি হাড় মজবুত করে। এবং শরীরের বোনস এবিলিটি বাড়ায়৷ 

ড্র‍্যাগন ফলে রয়েছে ক্যালসিয়াম।  ধারণা করা হয় যে ২০০ গ্রাম দুধে যে পরিমান ক্যালসিয়াম রয়েছে, মাঝারি সাইজের ড্রাগন ফলে তার থেকে কিছুটা বেশী ক্যালসিয়াম থাকে। 

ক্যালসিয়াম আমাদের দাত মজবুত করে৷ রিকেটস রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে৷ ক্যালসিয়াম শরীরে রক্তের পরিমান বৃদ্ধিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ 

এছাড়াও এটি ভিটামিন ডি শোষণ করে৷ সে কারণে নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি অনেকটাই কমে আসে। 

ভিটামিন – বি তে পরিপূর্ণ ড্রাগন ফল

ভিটামিন বি দেহের কোষ গঠনে ভূমিকা রাখে৷ প্রোটিন সংশ্লেষনে সহায়তা করে৷ এছাড়াও এটি প্রজননের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে৷ মেয়েদের গোনাডোট্রোপিন নামক হরমোনের পরিমান বৃদ্ধি করে৷ 

কাজেই – গর্ভবতী মায়ের জন্য ড্রাগন ফল অত্যন্ত উপকারী একটি ফল৷ 

সাধারণত গর্ভকালীন সময়ে মায়েরা ভিটামিন-বি এর ঘাটতিতে ভোগেন। 

লৌহ ও ফসফরাস সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল

ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমানে লৌহ ও ফসফরাস রয়েছে৷ লৌহজাত খাদ্য উপাদান দেহে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়৷ হিমোগ্লোবিনের অভাবে একজন মানুষ রক্তশূন্যতায় ভুগতে পারে৷ 

আমাদের দেশে প্রতি ১০ জন নারীর ভেতরে ৩ জন নারী রক্তশূন্যতায় ভোগে৷ এবং গর্ভকালীন সময়ে রক্তশূন্যতার পরিমান আরো বেড়ে যায়৷ 

রক্তশূন্যতার বেশ কিছু কারণ রয়েছে তবে তার ভেতরে লৌহঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা সবচেয়ে ভয়ংকর৷ 

আর তাই,নারীদের অবশ্যই প্রতিদিন লৌহসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত৷ শুধু ড্রাগন ফল দিয়েই যে এই চাহিদা পূরণ করতে হবে তা নয় – যেকোনো লৌহসমৃদ্ধ খাবার যেমনঃ মসুরের ডাল,কলিজা,যকৃত,কিডনি ইত্যাদি দিয়েও এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। 

জিংকের ঘাটতি পূরণে ড্রাগন-

ড্রাগন ফল জিংকের ঘাটতি পূরণ করে এবং শরীরে সাইক্লোক্রিয়েটিক নামের একটি বিষাক্ত পদার্থের জন্মে বাধাপ্রদান করে৷ 

এছাড়াও ড্রাগন ফল শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমান কমিয়ে দিয়ে, ভালো কোলেস্টেরলের পরিমান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে৷ তার পাশপাশি এটি টারমোকারলিন নামের একটু অনুঘটকের পরিমান বৃদ্ধি করে৷ যদিও ধারণা করা হয় এই টারমোকারলিন পটাশিয়ামের একটি রূপ ভেদ৷ 

এছাড়াও ড্রাগন ফলের উপকারিতা গুলোর ভেতরে এমন কিছু উপকারিতা আছে যা আপনার ত্বকের যত্নে কাজে দেবে৷ 

পৌষ্টিকতন্ত্রের সমস্যা দূর করতে ড্রাগন ফল

ড্রাগন ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে রাফের,যা মলের পরিমান বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে৷ এতে পেট পরিষ্কার হয়,পৌষ্টিকতন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো এটি শরীরের কোষ্টকাঠিন্য কমায়৷ 

এটি ছাড়াও ড্রাগনফল পাইলসের সমস্যা রোধ করতে সহায়তা করে থাকে৷ 

কাজে যারা কোষ্টকাঠন্য সহ, পৌষ্টিকতন্ত্রের অন্য সমস্যাগুলিতে ভোগেন তাদের জন্য ড্রাগন ফল অমৃতের চেয়েও দামী! 

ত্বকের চর্চায় ড্রাগন ফলের জাদুকরি গুনঃ

ড্রাগন ফলের উপকারিতা

কয়েক স্লাইজ ড্রাগন ফল হাল্কা গরম পানিতে ডুবিয়ে,সামান্য রস বের করে নিন৷ এবার সেই পানিতে সামান্য মধু মিশিয়ে আস্তে আস্তে নাড়তে থাকুন। মধু সম্পূর্ণ মিক্সড না হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন৷ 

এরপর এর সাথে কিছুটা পাস্তুরাইজ দুধ মেশান৷ দশ মিনিট পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন৷ 

এবার এর সাথে যুক্ত করুন কিছুটা ওলিভ ওয়েল। বাসায় যদি ওলিভ ওয়েল না থেকে থাকে তাহলে নারিকেলের তেল ব্যবহার করতে পারেন৷ 

কখনোই বোতলজাত নারিকেলের তেল ব্যবহার করবেন না – অবশ্যই এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল ব্যবহার করতে হবে। 

এবার মিশ্রনটি সাড়া মুখে ভালো করে মাখিয়ে নিন৷ এভাবে ৩০ দিন পর্যন্ত মিশ্রনটি মুখে প্রয়োগ করলে ব্রোন,মেস্তে এমন কি জন্ম দাগ থেকেও পরিত্রান পাওয়া সম্ভব৷ 

পাতলা পায়খানা হলে করণীয় কি? কি খাবেন, কি, না খাবেন ?

চুলের যত্নে ড্রাগন ফল

কয়েক টুকরো ড্রাগন ফলের সাথে কিছুটা কালো মেশ এবং মেথি মিশ্রণ ভালো করে মিশিয়ে মাথায় প্রয়োগ করুন । যদি সম্ভব হয় তাহলে মিশ্রনের সাথে এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট ওয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। 

কোন অবস্থাতেই কেমিক্যাল সমৃদ্ধ কোকোনাট অয়েল ব্যবহার করা যাবে না ।

এরপর সেটি কয়েক সপ্তাহ মাথায় প্রয়োগ করলেই ধীরে ধীরে চুল গজাতে শুরু করবে। তার পাশাপাশি চুল মজবুত ও ঘন করবে। 

তবে হাতে কলমে প্রয়োগ করে দেখা গেছে, এটি চুলের রং কিছুটা নষ্ট করে দিতে পারে। কাজে অবশ্যই চিন্তাভাবনা করে প্রয়োগ করবেন ।

কাজেই আমাদের সকলের উচিত নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়া৷ তবে ড্রাগন ফল অনেক ব্যায়বহুল একটি ফল,যার কারণে অনেকেই এটি কিনতে পারেন না – বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্রদের এটা কেনার সামর্থ্য নেই৷ 

কাজেই,সামাজিক দায়বদ্ধতার দিক দিয়ে আমাদের সকলের উচিত,সকলের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে যথোপযুক্ত উদ্দ্যোগ নেওয়া৷ 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *