স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা- স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প !

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা :  স্বামী-স্ত্রীয়ের সম্পর্ক এই পৃথীবির সবচেয়ে পবিত্র সম্পর্ক বলে গণ্য করা হয়৷ যেকোনো ধর্মেই বিয়ে সম্পর্কে বিধি-বিধান রয়েছে,তবে কোনোধর্মেই ইসলাম ধর্মের চেয়ে বেশী নেই৷ 

ইসলাম ধর্মে একজন সামর্থ্যবান নারী ও পুরুষের বিয়ে করা ফরজ৷ বিয়ের মাধ্যমে শুধু যে স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা এর সম্পর্ক সৃষ্টি হয় তা নয় বরং তার পাশাপাশি একটি পরিবারের সাথে আরেকয়ি পরিবারের ঘনিষ্ঠ এবং অবিচ্ছিন্ন একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ 

সাংসারিক জীবনে স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার এর সম্পর্ক না থাকলে সংসার টেকা খুবই দায়৷ 

চলুন জেনে নেওয়া যাক,

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা এর সম্পর্কে স্থাপনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পন্থা!

একে অপরের প্রতি যত্নশীল হোন৷ একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন৷ বিপদে-আপদে সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করুন৷ 

যদি কোনো ভুল করে থাকেন তবে তা অকপটে স্বীকার করে নিন৷ স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ই নিজেদের শারীরিক চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে সজাগ থাকবে,কিন্তু কোনো জুলুম করা যাবে না৷ ইদানিং “ম্যারিটাল রে*প” নামের একটি  শব্দ আমরা হরহামেশাই শুনতে পাই – যার মূলেই রয়েছে জুলুম৷ 

সংসার জীবনে একটু-আধটু ঝগড়াঝাটি হবে এমনটাই স্বাভাবিক – কিন্তু তাই বলে কখনোই বাড়াবাড়ির পর্যায়ে যাওয়া যাবে না৷ একে অপরের রিয়ালাইজেশন দিয়ে তার সমাধান করে ফেলতে হবে। 

অবশ্যই ইসলামিক অনুশাসন মেনে চলতে হবে৷ তা না হলে স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার এর সম্পর্ক স্থাপিত হবে না৷ 

প্রতিনিয়ত নিত্বনতুন উপহার-উপঠৌকন দেওয়ার চেষ্টা করুন৷ আর্থিক স্বাধীনতা বজায় রাখুন৷ বিশেষ দিন গুলো মনে রাখার চেষ্টা করুন৷ 

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার পোস্ট

পোস্ট-১

“গাছের জীবন যেমন শেকড়,

তেমনি মাছের জীবন হলো পানি

ছেলের জীবন টাকা পয়সা

মেয়ের জীবন স্বামী”

পোস্ট-২

“একটি মেয়ের সুন্দর জীবন গড়ে দিতে পারে একজন ভালো এবং দ্বায়িত্বশীল স্বামী , কিন্তু একজন মেয়ের জীবন নিমেষেই ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য একজন খারাপ স্বামীই যথেষ্ট !”

পোস্ট-৩

“স্বামী হলো এমন একটা প্রাণী যাকে খারাপ সময় অসহ্যকর লাগে,কিন্তু ভালো সময় এলে যেনো মনে হয়,এই অবুঝ প্রাণীটাকে ছাড়া আমি বাচবোই না।”

পোস্ট-৪ 

“আল্লাহর নবি রাসুল্ল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যদি কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে এবং যদি সেই নারী , সাড়া না দেয় বা বিমুখ করে থাকে তবে সাড়া রাত তার উপর অর্থাৎ সেই নারীর উপর ফেরেস্তাদের লালত বর্ষিত হয় ।”

পোস্ট-৫ 

“একজন চরিত্রবান পুরুষ একজন স্ত্রীয়ের অহংকার এবং একজন চরিত্রবা স্ত্রী একজন পুরুষের অহংকার!”

পোস্ট-৬ 

“কাপুরুষ তো সেই পুরুষকে বলা হয় যে তার স্ত্রীয়ের প্রেমিক হতে পারেনি।”

পোস্ট-৭ 

“স্বামী-স্ত্রী যখন উভয় একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসেন তখন আল্লাহ তাদের দিকে তাকিয়ে হাসেন।”

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধির দোয়া | স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধির আমল

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা

হাদিস ও কোরআনের আলোকে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধির নানাবিধ দোয়া উঠে এসেছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক ! 

মূলত এটি একটি আমল।

আল্লাহ পাকের যে কয়টি গুনবাচক নাম রয়েছে তার সবকটির একটি করে আলম রয়েছে।

আল্লাহ পাকের সকল গুনগত নামের ভেতরে একটি নাম হলো “আল-ওয়াদুদ”

যার অর্থ হলো প্রকৃত বন্ধু৷ 

যদি কোনো কারণে স্বামী-স্ত্রীর ভেতরে মনোমালিন্য হয়ে থাকে, অথবা উভয় যদি একে অপরের প্রতি অসন্তুষ্ট হন, তাহলে আল্লাহ পাকের এই গুনবাচক নামটি ১০০১ বার পাঠ করে, কোনো খাবারে ফু দিয়ে, একে অপরকে খাওয়ানোর কোনো ব্যবস্থা করতে পারলেই তাদের ভেতরে পুনরায় আন্তরিকতা ও মহাব্বাতের উদয় হবে৷ 

এটি শতভাগ একটি কার্যকর পদ্ধতি৷ ভবিষ্যতে যদি কখনো মনোমাল্যিন্য হয়ে থাকে তাহলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। 

আরো পড়ুনঃ

ওমরাহ করার নিয়ম !

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা- স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প !

নিম্নে স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প শেয়ার করা হলো৷ আশা করি আপনারদের গল্পটি ভালো লাগবে৷ 

সকাল বেলা দেখলাম শ্রাবনী নিজে থেকেই ঠোট দিয়ে আমার শার্টে লিপস্টিকের দাগ ভরিয়ে দিলো । আবার সেটা সুন্দর মতো আলমারিতে রেখেও দিলো ! 

ব্রেক ফাস্টের সময় আবার সেই শার্ট আমাকে দেখিয়ে বলতে লাগলো,এইসব কি আকাশ ! তোমার কোন বান্ধবীর ঠোটের  লিপস্টিকের দাগ এইটা ? 

আমি একটি বিরক্তি নিয়েই বললাম, আহা ! অফিসে কতো বান্ধবীর সাথেই তো ওঠা-বসা করতে হয় ! তাদের মধ্যে কারো একজনের হবে হয়তো … 

ছিহ আকাশ ! ছিহ ! তোমার মতো একটা নির্লজ্য বেহায়া ছেলের সাথে ঘর-সংসার করছি ভেবেই আমার কান্না পায় ! ছিহহহ …

বলেই শার্টটা আমার মুখের উপর ছুড়ে দিয়ে মিথ্যে কান্নার অভিনয় করতে করতে দৌড়ে ঘরে চলে গেলো। 

আশ্চর্য্য ! মেয়েটা এমন করলো কেনো বুঝলাম না ! 

এর ঠিক কিছুদিন পর শ্রাবনী দুপুরের লাঞ্চের সময়  আমার মুখের সামনে ফোন ধরে চিতকার করে বলতে লাগলো, কার ছবি এগুলো ! বলো কার ছবি ? ঘরে বউ থাকতে একটা বেসরম মেয়ের সাথে সেলফি তুলো লজ্জা করে নাহ ! 

আমি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম, পাকিস্তানী এক মডেলের সাথে আমার ছবি এডিট করে বসিয়ে দেওয়া! 

আমি বিরক্তির সাথে বললাম, আরে কি আশ্চর্য্য ! এই মেয়েকে আমি কোথায় পাবো ! আর এতো দেখাই যাচ্ছে এডিট করা ছবি ! জাস্ট আমার মাথা কেটে  বসিয়ে দিয়েছে । 

চুপ ! আর একটা কথা নাহ ! তপোর মতপো একটা কাপুরুষ-ল*ম্পট-লু*চ্চু-ইতরের সাথে আমি আর এক মূহুর্ত ঘর-সংসার করবো নাহ ! 

আমি গেলাম বাপের বাড়ি ! তুই থাক তোর ঢেম*নি

শ্রাবণী এটুকু বলেই রাগ দেখিয়ে চলে গেলো । 

মেয়েটা কেনো এমন করছে বুঝতে পারছি না ! পূর্বের ঘটনার স্থে সামঞ্জস্য রেখে এটুকু বলা যায় যে এটা ওরই কাজ ! 

তবুও কোনো মতে রাগ ভাঙিয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে  বাসায় নিয়ে আসলাম ! 

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প এর পার্ট -২ 

সন্ধ্যায় অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে ওর হাতে বিরিয়ানীর প্যাকেট বুঝিয়ে দিয়ে বললাম, আজ রাতে আর রান্না করার দরকার পড়বে না ! (দেখেন !কেমনে আর্টিস্টদের বিরিয়ানী খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলাম !)  

শ্রাবনীর খুশী আর দেখে কে ! রাতে খাওয়ার সময় খুব ঠান্ডা মাথায় শ্রাবনীকে বললাম, দেখো শ্রাবনী ! বিগত কয়েকদিনে যা কিছু ঘটেছে,এর কোনোটার পেছনেই যে আমার দোষ  ছিলো না-তা তুমি ভালোভাবেই জানো ! কেননা সেদিন শার্টে লিপস্টিকের দাগটা তুমি ইচ্ছে করেই দিয়েছিলে! 

পাকিস্তানী সেই  মডেলের সাথে নিজেকে আবিষ্কার করে, কয়েক ন্যানো সেকেন্ডের জন্য পুলকিত হয়ে গিয়েছিলাম বটে-কিন্তু যখন বুঝতে পারলাম এগুলো তোমার কারসাজি ঠিক তখনই মনটা দমে গেলো ! 

এবং আমি এও জানি যে তুমি কেনো এমনটা করেছো ! ছোটোবেলায় বেলায় মাকে দেখতাম এমন করতে ! ২৪ ঘন্টা অফিস নিয়ে ব্যাস্ত বাবার সামান্য এটেনশান পেতে  বেচারা ঠিক তোমার মতোই ফন্দিফিকির খুজতো ! 

  আমি জানি যে তুমি  এ কয়দিন  ছুতোয়-নাতায় আমার ভালোবাসাটুকু পাওয়ার জন্য অনেক অব্যার্থ চেষ্টা চালিয়েছো । কিন্তু লাভ হয়নি । 

পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও ! হয়তো এই কর্ম ব্যাস্ত জীবনটায় তোমাকে যথেষ্ট সময় আমি দিতে পারবো না , কিন্তু বিশ্বাস করো তুমি চিরটাকাল আমার বুকের বা পাশটায় রয়ে যাবে ! 

আমার এমন ইমোশনাল ডায়লগ শুনে শ্রাবনী চোখের জল ধরে রাখতে পারলোনা ! 

আর এভাবেই আমাদের সম্পর্কটা আবার জোড়া লাগল !

আমাদের দেশের কর্মব্যাস্ত দম্পতির পরিবারে এমনটা প্রায়ই ঘটে ! আর তাই আপনার জীবনসঙিকে পর্যাপ্ত সময় দিন – তার ইচ্ছে-অনিচ্ছের বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করুন! নইলে আপনিও আমার মতো যে কবে ফেসে যাবেন,তার গ্যারান্টি কেও দিতে পারবে না !

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প টি আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে৷ 

সর্বোপরি স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা এর সম্পর্ক রক্ষা করতে উভয়কেই একে অপরের প্রতি যত্নশীল থাকতে হবে। তা না হলে সংসার জীবন টেকানো দায়সাড়া হয়ে পড়বে৷ 

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সুহালে সংসার করার তৌফিক দান করুক – আমিন! 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *