কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম যা আপনার অবশ্যই জানা প্রয়োজন!

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম: কৃমিতে আক্রান্ত হয়নি এমন কোন জেনারেশন হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না । কৃমি রোগের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে রয়েছে একটি সহজ সমাধান।

কৃমির টেবলেট ! বাজারে যেকোনো ফার্মেসিতে গিয়ে মাত্র ৫ টাকা দামে কিনতে পারবেন এই ট্যাবলেটটি । 

যদিও ২০২২ সালে এসেও অনেকে কৃমি রোগে ভুগলেও কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে অবগত নন ।

মূলত তাদের জন্যই এই আর্টিকেলটি ।

আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানবো, কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম, কৃমির ওষুধের নাম, কৃমির ওষুধ কোনটা ভালো, কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার আগে না পরে খেতে হয়, মানুষের কৃমির ট্যাবলেট, গুড়া কৃমির ওষুধের নাম এর নাম ইত্যাদি যাবতীয় কিছু সম্পর্কে!

কৃমির ওষুধের নাম :

কৃমির ওষুধের নাম হল মেবেন্ডাজল ও আলোবেন্ডাজল। এগুলো মূলত এমন এক ধরনের ওষুধ যা পরজীবী কৃমির বিরুদ্ধে দেহে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

স্কুল-কলেজে মূলত তিন মাস অন্তর অন্তর আমাদের চেয়ে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো হয় সেটি আলবেন্ডাজল। 

এবং যদি কৃমি রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করে তখন তিন দিন অন্তর অন্তর মেবেনডাজল খাওয়ানো হয়। 

এছাড়াও চাইলে শিশুদেরকে এই দুইটি ওষুধের সিরাপ খাওয়ানোর হতে পারে।

বাজারে এই ওষুধগুলো মূলত একই গ্রুপের তবে বিভিন্ন নামে পরিচিত হতে পারে। সুতরাং ফার্মাসিস্টের কথামতাবেক ওষুধ কেনার পরে গ্রুপ চেক করে নিতে ভুলবেন না। 

ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিকটস্থ ডাক্তারের নিকট যোগাযোগ করতে পারেন অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার নিশ্চিত হতে পারেন ।

অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে ।

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম নীচে উল্লেখ করা হলো:

  • যখন আপনাকে কৃমির ট্যাবলেট খাবেন, তখন অবশ্যই তা পরিবারের অন্য সদস্যদের খাওয়াতে হবে । এবং যদি আপনি পরিবারের অন্য সদস্যদের না খাইয়ে কেবল নিজেকে থাকেন – তবে কৃমি কিন্তু মোটেও পুরোপুরিভাবে নির্মূল হবে না।
  • ছোট বড় সকলের কৃমির ডোজ এক ! এবং ওষুধও এক।
  • চাইলে একজন সুস্থ সবল ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তিন থেকে চার মাস অন্তর অন্তর কৃমির ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন । তবে কৃমির সমস্যা যদি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে ।
  • কৃমির ওষুধের কোন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকার কথা না । তবে সামান্য বমি বমি ভাব হতে পারে যেটি কিনা স্বাভাবিক । যদি মুখ ভর্তি বমি হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে ।
  • কৃমির ওষুধ সেবনের পরে যদি সমস্যা থেকে পড়ে তোলা না পাওয়া যায় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ বাড়াতে হবে। 
  • অনেকে মনে করেন গরমকালে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়া যাবেনা । যদিও এটি কিছুটা ভ্রান্ত ধারণা তবে যদি অত্যাধিক এবং অসহ্যকর গরমের ফলে কেউ দুর্বল অনুভব করে অথবা নার্ভাস ফিল করে তবে সেক্ষেত্রে কৃমিনাশক ওষুধ না খাওয়ানোটাই ভালো । যদিও গরমকালে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো যাবে না এই ধরনের কথার বিজ্ঞানসম্মত কোন যুক্তি নেই।
  • ভরা পেটে কৃমিনাশক ওষুধ না খেলে ওষুধ কাজ করবে না – এটিও একটি ভিত্তিহীন কথা। যদিও কৃমিনাশক ওষুধগুলো ভরাপেরে খাওয়াটাই উত্তম । কেননা এতে করে কৃমির ওষুধের অর্থাৎ কৃমির ট্যাবলেটের রিয়েকশন সহ্য করার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা শরীরের সঞ্চিত থাকে।
  • কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার পর যেকোনো ধরনের স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে। 
  • একজন সুস্থ অর্থাৎ কৃমি রোগে আক্রান্ত নয় এমন মানুষের কখনোই এক সপ্তাহের ব্যবধানে একবারের বেশি কৃমি ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বেড়ে যেতে পারে এমনকি অনেক সময় মৃত্যুর ঘটনা অবধিও ঘটে। 

 কৃমির ওষুধ কোনটা ভালো?

কৃমির ওষুধ গুলোর ভেতরে সবচেয়ে ভালো ওষুধ অ্যালমেক্স ট্যাবলেট ।(almex tablet)

আপনি বাজারে গিয়ে মাত্র 5 টাকার মধ্যে এই ওষুধটি সংগ্রহ করতে পারবেন । যদি বাজারে সর্ব স্বাভাবিক থাকে তাহলে ৫ টাকার ভেতরে পেয়ে যেতে পারেন। আর যদি বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে তবে দাম বাড়তে পারে ।

বেক্সিমকো ফার্মাসি লিমিটেডের তৈরি এই ওষুধটি বর্তমান বাজারে কৃমি রোগের সবচেয়ে মানসম্পন্ন এবং কার্যকরী ওষুধ বলে বিবেচিত। 

প্রতি বছর বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর ক্যাম্পেন চালু করে থাকেন। 

সম্প্রতি সময় নানাবিধ গুজবের কারণে এ প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল । তবে সকল গুজবের অবসান ঘটিয়ে এখনো প্রতিবছর বাংলাদেশ সরকার নিজ উদ্যোগে ছেলে মেয়েদের বিনামূল্যে কৃমির ওষুধ খাওয়ায় !

উল্লেখ্য এইযে, প্রতিবছর স্কুল কলেজে যে সকল ক্রিমের ওষুধ খাওয়ানো হয় সেগুলো সম্পূর্ণটাই নিরাপদ এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত। তবুও যদি ওষুধে কোন ধরনের সমস্যা থেকে থাকে – তাহলে সেই ব্যাপারে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে অবগত করতে হবে। যদি তাতেও কোন সমাধান না হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করা যেতে পারে ।

গুড়া কৃমির ওষুধের নাম?

গুড়া কৃমির ওষুধের নাম হল সোলস ট্যাবলেট। কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম অনুসরণ পূর্বক এই ওষুধটি সেবন করতে হয় ।তবে এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা।

এছাড়াও যদি কেউ গুড়া কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে তাকে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা সম্ভব।

১ চা চামচ কাঁচা হলুদে সামান্য নুন মিশিয়ে ৫০০ মিলিগ্রাম গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে এ রোগ থেকে নিরাময় অসম্ভব।  দিনে প্রতিদিন পাঁচবার করে খেলে মাত্র তিন দিনের মাথায় গুড়া কৃমি রোগ ভালো হয়ে যায়।

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার আগে না পরে খেতে হয়?

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

কৃমির ট্যাবলেট খেতে হয় খাওয়ার পরে। কৃমির ট্যাবলেট মূলত তুনলামূলক বেশী শক্তিশালী ও কার্যকারী ওষুধ হওয়ার ফলে – এটি খেলে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব সহ নানা সমস্যায় ভুগতে হতে পারে। 

আর সে কারণে শরীরে যেনো কোনো ধরণের কম্পলিসিটি না হয় – তাই পর্যাপ্ত খাবার খেয়ে কৃমির ওষুধ খেতে হবে,যেনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সাথে লড়াই করার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি থাকে৷ অবশ্যই কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম অনুসরণ করে ওষুধ সেবন করতে হবে।

একটা সময় ছিল যখন কৃমি রোগকে অনেক ভয়াবহ এবং জটিল বলে বিবেচনা করা হতো । এমনকি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনার খবর শুনে যেত। পরজীবী দ্বারা দেহ আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে সমস্ত শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়তো, এবং রোগী ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তো। কৃমি ছাড়াও আমাশা,ডায়রিয়া,যক্ষ্মা ইত্যাদি ব্যাধি গুলোকে মরণব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

 তবে বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় আবিষ্কৃত হয়েছে । এবং তার পাশাপাশি যোগাযোগ প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার ফলে যে কোন রোগের সহজ সমাধান মিলবে এখন হাতের মুঠোয় ।

 আর সে কারণেই এই ধরনের রোগ থেকে রক্ষা পেতে আমাদেরকে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক সঠিক ওষুধ গ্রহণ করতে হবে যেন পরবর্তীতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ভুগতে না হয়। 

আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা মূলত কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম, কৃমির ওষুধের নাম, কৃমির ওষুধ কোনটা ভালো, কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার আগে না পরে খেতে হয়, মানুষের কৃমির ট্যাবলেট, গুড়া কৃমির ওষুধের নাম ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেছি।

আশা করি আপনি উক্ত আর্টিকেলের মাধ্যমে বিন্দুমাত্র হলেও উপকৃত হয়েছেন। যদি সামান্যতম উপকৃত হয়ে থাকেন তবে সেটি ক্ষুদ্র বাংলা ব্লগ সাইট হিসেবে আমাদের একমাত্র সার্থকতা।

রিলেটেড পোস্টঃ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *